Main Menu

ভেঙে ফেলা হতে পারে আব্দুল্লাপুরের বাস ষ্ট্যান্ড মসজিদটি

মোহাম্মদ উল্লাহ মাহমুদ।

কেরানীগঞ্জ টুয়েন্টিফর ডটকম।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বুধ বার।

দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্যরা সম্প্রতি এসে মসজিদ কমিটির লোকজনকে বলে গেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মসজিদের এয়ারকন্ডিশনগুলো যেনো খুলে রাখা হয়। মানে,মসজিদের জায়গায় মসজিদটি অার থাকছেনা। বেঁধে দেয়া সময় উত্তীর্ণ হলে ( ১৪ দিন) কর্তৃপক্ষ হয়তো অবৈধ সব স্থাপনা উচ্ছেদ করবে,হয়তো মসজিদটিও ভেঙে ফেলবেন…!!! কারণ রাস্তার পরিত্যক্ত সরকারি জায়গায় মসজিদটি নির্মান করা হয়েছে।অার ঢাকা-মাওয়া সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণের লক্ষে রাস্তা সম্প্রসারণ করার জন্য পরিত্যক্ত সরকারী জায়গা দখলমুক্ত করা হবে।

ঐতিহ্যবাহী আব্দুল্লাহপুর বাস ষ্ট্যান্ড বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদটি ১৯২০ সালে পীরে কামেল আলহাজ্ব হযরত মাওলানা নাদের হোসেন মৌলভী প্রতিষ্ঠা করেন।১৯৫০ সালের ১২ই অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরন করেন তখন তাকে অত্র মসজিদের পূর্ব পাশে সমাহিত করা হয়। ১৯৭৬ সালে ঢাকা মাওয়া মহাসড়কের জন্য ভুমি অধিগ্রহণ করা হলে রাস্তার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরে ও মসজিদটি ছোট পরিসরে যথাস্থানেই ছিল।সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ ও কখনো মসজিদ ও প্রতিষ্ঠাতার মাজার স্থানান্তরের কোন নোটিশ প্রদান করেনি। ১৯৯৬ সালের ১৪ই ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠাতার ওয়ারিশগন ১টি ওয়াকফ দলিলের মাধ্যমে ৩ শতাংশ ভূমি ও ২টি দোকান ওয়াকফ 123456করে দেন।সেই বৎসরই মসজিদ পরিচালনা কমিটি মসজিদটির পুনঃনির্মানের কাজ শুরু করে ৩ তলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। উক্ত মসজিদ আব্দুল্লাহপুর এলাকার কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং এখানে সর্ববৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একসাথে ৬০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করে থাকেন। বাজার ও বাসষ্ট্যান্ড এর অতি নিকটে হওয়ায় অত্র মসজিদটি সকল মুসল্লিদের অতি পছন্দের মসজিদ । তাছাড়া ঢাকা মাওয়া মহাসড়কে চলাচলকারী অনেক পথচারী উক্ত মসজিদে নামাজ আদায় করে থাকেন। মসজিদ প্রতিষ্ঠাতার নাতি পীরে কামেল আলহাজ্ব হযরত মাওলানা ফরিদউদ্দীন (আব্দুল্লাহপুরী) সাহেব একজন প্রখ্যাত আলেম ও ভালো ওয়াজিনে কেরাম।তিনি ও ইমাম সাহেব মাগরিব ও এশার পূর্বে প্রয়োজনীয় মাসলা মাসায়েল ও সহীশুদ্ধ ভাবে নামাজ আদায়ের নিয়ম কানুন শিক্ষা দিয়ে থাকেন। আলহামদুলিল্লাহ তাদের পরিশ্রমের ফলে বহু মুসল্লির আমল ও নৈতিক চরিত্রে পরিবর্তন এসেছে।তাছারা অত্র মসজিদে সারা বছরই বয়স্কদের বিনামুল্যে নুরানী পদ্ধতিতে কোরান শিক্ষা দেওয়া হয়।ঈমান, আমলের মেহনত ও দাওয়াতে তাবলীগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে বুঝানো হয়।অত্র এলাকার সাধারণ মুসল্লিদের নিকট এই মসজিদের গুরুত্ব অনেক। ঢাকা খুলনা (এন ৮) মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া এবং পাঁচ্চর -ভাংগা অংশ ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক ৪ লেনে উন্নয়ন কাজের জন্য বিগত ২৯/০৮/২০১৬ ইং তারিখে মসজিদ কমিটিকে ১৪ দিনের মধ্যে মসজিদটি অপসারণ করার নোটিশ প্রদান করে।ইহাতে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। মসজিদের মোতোয়াল্লি আলহাজ্ব মোঃ আলমাছ মিয়া ও অত্র এলাকার একমাত্র শতবর্ষি মুসল্লি আলহাজ্ব সমন মিয়া কেরানীগঞ্জ ২৪ ডটকম কে বলেন, ১/১১ এর সরকারের সময় বৃহত্তর আব্দুল্লাহপুরে অনেক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন, তখন অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিষ্ট্রেট শুধু অত্র মসজিদের পশ্চিম উত্তর কোনার ১২ ফিট বাই ২ফিট ওয়াল ভাংগার হুকুম প্রদান করে।আমরা সাথে সাথে তা ভেংগে ফেলি।আমরা দেশের সকল প্রকার উন্নয়নের পক্ষে।এটি আব্দুল্লাহপুর এলাকার একটি প্রাচীন মসজিদ,এবং এই মসজিদের নিচে প্রতিষ্ঠাতার মাজার রয়েছে,তাই মুসল্লিদের প্রানের দাবী প্রতিষ্ঠাতার মাজার সরক্ষন করে বিকল্প মসজিদ নির্মান করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলে আমাদের অপত্তি নাই। সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন এই ব্যপারে মিডিয়ায় কথা বলতে রাজি হননি।

© 2016, Presslist24.com. <<- প্রথম পাতায় ফিরতে ক্লিক করুন http://www.keranigonj24.com

Facebook Comments





Leave a Reply