বায়তুল মোকাদ্দাস ধংসের দ্বারপ্রান্তে! মুসলিম উম্মাহ সজাগ হোন!!

মিডিয়াতে শেয়ার করুন
Share

Please enter banners and links.

ইলিয়াছ আহমদ বাবুল-
কেরাণীগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডক কম।

বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদ (উপরে)
ইয়াহুদীদের তৈরী আল-শাখরা (নিচে)
মুসলিম জাহানের প্রথম কেবলা “বায়তুল মোকাদ্দাস” ধংসে ধারিবাহিক অভিযান পরিচালনাকারী গোষ্ঠী যেন বেপরোয়া,মসজিদের সকল ভিত্তি দূর্বল করেও শান্ত নয় ইয়াহূদী সম্প্রদায়।
পাশেই গড়ে তুলেছে আল-শাখরা নামের আরোও একটি মসজিদ,আল-শাখরা কে আল-আকসা নামে পরিচয় দিয়ে ধোকাবাজি শুরু।হামলা অব্যাহত।

১৯৬৭ সালে সর্বপ্রথম বাবুল মাগরেবা পর্যন্ত ১৪ মিটার গভীরতায় খনন করে। ২য় বার ১৯৬৯ সালে ব্যাপক ভাবে মুসলমানদেরকে উৎখাত করে এবং আল-আকসা মসজিদে অগ্নিসংযোগ করার পর আল-আকসা মসজিদের ৮০ মিটার দূরে ব্যাপক ভাবে খনন করে। ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ৩য় বার আল-আকসা মসজিদের দেয়ালের নিচে দক্ষিণ এবং পশ্চিম দিকে খনন করে ইসলামী কোর্ট ও মুসলমানদের বাড়ি-ঘর দখল করে নেয়। ৪র্থ বার ১৯৭৩ সালে আল-আকসা মসজিদের পশ্চিম পাশের দেয়ালের নিয়ে ১৫ মিটার গর্ত করে। ৫ম বার ১৯৭৪ সালে ৪র্থ বারের করা ১৫ মিটার গর্তকে সম্প্রসারিত করে। ৬ষ্ঠ বার ১৯৭৫-৭৬ সালে মসজিদের পশ্চিমে সম্প্রসারিত গর্তকে আরো সম্প্রসারিত করে প্রখ্যাত সাহাবীদ্বয় উবাদাহ বিন সামেত এবং শাদ্দাদ বিন আউসের (রাঃ) কবর থেকে হাড়গোড় সরিয়ে ফেলে। ৭ম বার আল-আকসা মসজিদের মহিলাদের নামাজের জায়গার নিচে খনন করে। ৮ম বার ১৯৭৯ সালে মসজিদের নিচে বোরাক দেয়ালের পাশে খনন করার পর তাতে পাকা উপাসনালয় তৈরি করে যা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করে। ৯ম বার ১৯৮৬ সালে ব্যাপক খনন কার্য চালিয়ে জেরুজালেম শহর থেকে বহু মুসলমান পরিবারকে উচ্ছে করে এবং ফিলিস্তিনিদের হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়। আল-আকসা মসজিদ ও মসজিদে সাহারা যেন সামান্য ভূমিকম্পে ধসে পড়ে সে লক্ষ্যে ১০ম বার ১৯৮৮ সালে এই দুই মসজিদ সংলগ্ন ওয়াদী এলাকায় “হাইকালে সোলায়মানী” খোঁজার নামে ব্যাপক খনন কার্য চালায়।

জানা যায়,১৯৬৭ সালের যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলিরা আল-আকসা মসজিদের কয়েকটি জানালা ভেঙে ফেলে। একই বছরের ১১ জুন বোরাক দেয়ালের সামনের মুসলমান অধ্যুষিত বসতিটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। ১৫ আগষ্ট ২০জন ইসরাইলি সৈন্য মসজিদে প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করে এবং প্রার্থনা করে। ১৯৭০ সালের আগষ্ট মাসে “হাইকালে সোলায়মানী” ধ্বংসের স্মৃতিতে তারা প্রতি বছর আগষ্ট মাসে বাইতুল মোকাদ্দাসে আগ্রাসী তৎপরতা চালায়। ১৯৬৯ সালের ২১ আগষ্ট অস্ট্রেলিয়ান খৃস্টান ডেনিল মাইকেল আল-আকসা মসজিদে অগ্নি সংযোগ করে। ইসরাইলি হাইকোর্ট এই ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস দেয়।

১৯৭৬ সালের ৩০ জানুয়ারি ইসরাইলি আদালত আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদেরকে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার পর ৮০জন ইহুদি জোরপূর্বক মসজিদে প্রবেশ করে গান-বাজনা করে নামাজে বিঘœ সৃষ্টি করে। ১৯৮০ সালের ১ মে ইহুদিরা বিস্ফোরণের মাধ্যমে আল-আকসা মসজিদ ধ্বংসের চেষ্টা চালায়। তারা আল-আকসা মসজিদের নিকটস্থ একটি গীর্জার ছাদে ১টনের বেশি ওজনের বিস্ফোরকদ্রব্য রাখে আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস করার জন্য কিন্তু মুসলমানরা সতর্ক থাকায় সে মিশন ব্যর্থ হয়। ১৯৮১ সালের ৯ আগস্ট ইহুদিদের একটি সংগঠন জোশ ইযুনিয়ামের ৩শ’ সদস্য মসজিদের তালা ভেঙে প্রবেশ করার পর প্রার্থনা করে।

১৯৮২ সালের ২ মার্চ অস্ত্রধারী ১৫ জন ইহুদি মসজিদে ঢুকে একজন রক্ষীকে ছুরিকাঘাত করলে এর প্রতিবাদে জেরুজালেম,গাজা,পশ্চিমতীর ও নাবলুসে ধর্মঘট পালিত হয়। ১৯৮২ সালের ১১এপ্রিল ইহুদি গডম্যান মসজিদে এসে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করলে মসজিদের একজন রক্ষী নিহত হয় এবং হতাহত হয় অসংখ্য মুসল্লি। এই সময় মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে মুসলমানরা এগিয়ে আসলে ইসরাইলি সৈন্যরা গুলি বর্ষণ করে শতাধিক মুসলমানকে আহত করে। ১৯৮৩ সালে রাবী জালমানের শিষ্যরা আল-আকসা মসজিদে আক্রমন করে। একই বছর ৪২ জন ইহুদি মসজিদে অগ্নি সংযোগের চেষ্টা করলে রক্ষীরা তা প্রতিরোধ করে।

১৯৮৪ সালে সন্ত্রাসী ইহুদিরা ২৯ কেজি বিস্ফোরক দিয়ে মসজিদটি ধ্বংস করার চেস্টা করলে মুসলমানদের বাধার কারণে তা ব্যর্থ হয়। একই বছর আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি পতাকা উত্তোলনের জন্য দুই দুই বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ১৯৮৭ সালের ৪ আগষ্ট ও ১৯৮৮ সালের ১৫ জানুয়ারি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৩২ জন মুসল্লিকে হত্যা করে এবং ২ শতাধিক মুসল্লিকে আহত করে। ১৯৯০ সালের ৮ অক্টোবর ইহুদিরা মুসল্লিদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২জনকে হত্যা করে। সেই ঘটনায় শতাধিক মুসল্লি আহত হয়।

© 2017, কেরাণীগঞ্জ টুয়েন্টিফোর. <<- প্রথম পাতায় ফিরতে ক্লিক করুন http://www.keranigonj24.com

Facebook Comments
মিডিয়াতে শেয়ার করুন
Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + seven =