Main Menu

তারানগরে শিশুদের মারপিটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ : আহত একাধিক

তানভীর মাহমুদ-
কেরাণীগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার তারানগর ইউনিয়নে শিশুদের মারামারিকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ,তিন বছরের শিশু রাফিন সহ আহত একাধিক।
গুরুতর আহত একজন হাসপাতালে ভর্তি,একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

১২ জানুয়ারী ২০১৮ইং শুক্রবার সকাল ৯ টায়,
কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার তারানগরস্থ জয়নগর পুকুরপাড় সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে,সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়-দুই শিশু রাফিন (তিন) ও রিয়াদ (তিন) এর মারামারিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এই সংঘর্ষ।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত রাজু আহমেদ (রিয়াদের বাবা) -কে কেরাণীগঞ্জ স্বাস্থসেবা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে, সরেজমিন খোঁজ নিতে যাওয়া আমাদের প্রতিনিধিকে ঘটনার বিবরন দেন রাজু।

রাজু : গত মঙ্গলবার আমার ছেলে রিয়াদের সঙ্গে পাশের বাড়ীর রুমা’র ছেলে রাফিনের মারামারি হয়,ছেলেকে মেরেছে তাই আমার স্ত্রী একটু রাগারাগি করে কথা বলতে থাকে,এ সময় রুমার বোন লতার সাথে আমার স্ত্রীর কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়।
পরে পরিস্থিতি শান্ত হলেও গত এগারো জানুয়ারী আবারো দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া বাদে,এতে আমি (রাজু) উভয়পক্ষকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে ধমক দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।
এর পরদিন বারো জানুয়ারী সকাল নয়টার দিকে রুমার বড়ভাই রুবেল ও ভাগনে শামীম এসে আমাকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রথমে রুবেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেয় পরবর্তিতে শামীমও চাপাতি দিয়ে আমার মাথায় আরেকটি কোপ দিলে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যাই।
এ সময় রুবেল রাজু ও তার চার বোন মিলে আমাকে লাঠি ও ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পেটাতে থাকে,আমার স্ত্রী বাধা দিলে ওকেও পেটায় তারা।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে রুমা-রুবেলদের বাসায় গেলে শোনা যায় ভিন্ন কথা।

রুমার বড়বোন লতা কেরাণীগঞ্জ টুয়েন্টিফোর -কে জানান : মঙ্গলবারে বাচ্চাদের মারপিটকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন যাবত রাজু এবং রাজুর স্ত্রী দা বটি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আমাদের ধাওয়া করে আসছে,আমরা প্রান ভয়ে বাড়ীর দরজা জানালা বন্ধ করে রাখলে ওরা বাড়ীর মেইন গেট ও জানালায় দা বটি দিয়ে কোপ ও বাড়ীর ভেতর ইট পাটকেল ছুড়ে মারতে থাকে। এমতাবস্থায় আমাদের বাসায় কোন পুরুষ লোক না থাকায় আমরা আতংকের সাথে ঘরের দরজা বন্ধ করে কান্নাকাটি করতে থাকি,বর্নিত বিষয়গুলো আশপাশের সকলেই দেখেছে বলেও জানান লতা। তিনি আরোও বলেন-
বারো জানুয়ারী সকাল নয়টার দিকে আমি পাশ্ববর্তী বাসার এক মহিলার সাথে আলোচনারত অবস্থায় রাজুর স্ত্রী সিমা ছুটে এসে চিৎকার করে গালাগালি করতে থাকে,আমি ওর সাথে কথা না বাড়িয়ে বাসায় ঢুকে গেইট বন্ধ করে দেই।

এর একটু পরেই সিমা’র স্বামী (রাজু) এসে আমাকে ডাকতে থাকলে আমি গেইট খুলে সাড়া দেই,এ সময় রাজু বলে-
রাজু : তুই নাকি আমার বৌকে মারবি?
কথাটা বলেই দৌড়ে গিয়ে তার স্ত্রী সিমাকে চুলের মুঠি ধরে টেনে আনে এবং আমার দিকে ইশারা করে বলে-দেখি তোর সাহস থাকলে মেরে দেখা আমার স্ত্রীকে।
আমি (লতা) বলি : তোর বৌ আমাকে মারলে আমিও মারতে পারব তোর বৌকে,বলার পরপর’ই রাজু-
“তোর এতো বড় সাহস” বলে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

লতা আরোও বলেন- এ সময় রাজু আমাকে মাটিতে ফেলে আমার জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে ও এলোপাতারি কিল ঘুষি মারতে থাকে,আমার মা ছাড়াতে গেলে তাকেও লাঠি দিয়ে হাতের মধ্যে আঘাত করে।

খবর পেয়ে আমার ভাগনে শামীম ছাড়ানোর চেষ্টা করলে রাজুর বৌ (সিমা) আমার ভাগনেকে বটি দিয়ে মাথায় কোপ দেয়,এ সময় আমার ভাই দৌড়ে এসে আমাদের রক্ষার সার্থে রাজুর সাথে হাতাহাতি করলে দেয়ালের সাথে ধাক্কা লেগে রাজু মাথায় আঘাত পায়।
আমাদের আশপাশের অনেকেই দেখেছে এই কান্ড,মহল্লার একাধিক বার রাজু ওর বাচ্চার ব্যপার,অথবা ছোটখাটো ব্যপারে মহিলাদের উপর হাত তুলেছে।

ঘটনার পরপর’ই রাজুকে কেরাণীগঞ্জ স্বাস্থসেবা কেন্দ্রে (মালঞ্চা হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়,এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা (আটি পুলিশ ফাঁড়ি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা,রুবেল ও শামীমকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
গ্রেফতারের কিছুক্ষন পর আহত শামীমকে ছেড়ে দেয়া হলেও রুবেল এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা না হলেও চলছে উভয়পক্ষের প্রস্তূতি।

© 2018, Presslist24.com. <<- প্রথম পাতায় ফিরতে ক্লিক করুন http://www.keranigonj24.com

Facebook Comments





Leave a Reply