Main Menu

মডেল কেরাণীগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করায় এসআইকে পিটিয়ে আহত

অনলাইন ডেস্ক-
কেরাণীগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে আটকের জের ধরে শুক্রবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রধান ফটক ভেঙে থানায় ঢুকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।

 

প্রধান ফটক ভেঙে থানায় ঢুকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা এসআই শফিউল আজমকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে পুলিশের অন্য সদস্যরা এসে হামলাকারীদের বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে কলাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাহের আলী, শাক্তা ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন লিটনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। রাতভর থানার ভেতর এমন উত্তেজনার পর শনিবার ভোর ৪টার দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতে দুই পক্ষের মধ্যে আপসরফা হয়।

পরে ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন রুবেলকে ছেড়ে দেয়া হয়। আহত এসআই শফিউল আজমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকায় রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে সাদা পোশাকে গাড়ি তল্লাশি করছিলেন এসআই শফিউল আজম।

কিন্তু বিষয়টি তিনি থানার ওসিকে অবহিত করেননি। এ সময় শফিউল আজমের সঙ্গে একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক ও একজন সোর্স ছিল। গাড়ি তল্লাশির সময় একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চান এসআই শফিউল আজম। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন রুবেল।

এ নিয়ে এসআই শফিউল আজমের সঙ্গে রুবেলের বাকবিতণ্ডা হলে সিএনজি অটোরিকশা চালক (নাম জানা যায়নি) রুবেলকে চড় মারেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে রুবেলকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাদের ব্যবহƒত মোটরসাইকেলসহ দুটি গাড়িও জব্দ করে থানায় আনা হয়। থানায় আনার পর হ্যান্ডকাফ পরানো অবস্থায় রুবেলকে বেদম মারধর করেন এসআই শফিউল আজম।

এদিকে রুবেলকে পুলিশ আটক করেছে- এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাহের আলী ও শাক্তা ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন লিটনের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী থানা ঘেরাও করেন।

একপর্যায়ে তারা থানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে রুবেলকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এ সময় কলাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাহের আলী এসআই শফিউল আজমের কলার চেপে ধরেন এবং কিলঘুষি মারেন।

পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা একত্রিত হয়ে লাটিচার্জ করে নেতাকর্মীদের থানা থেকে বের করে দেন। বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তারা নানা স্লোগান দেন। আশপাশের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে এক প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ এসে থানায় অবস্থান নেয়।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। পরে দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। দুই পক্ষের মধ্যে আপসরফা হলে ভোর ৪টার দিকে রুবেলকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে শাক্তা ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন লিটন ও কলাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাহের আলী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরিদর্শক আসিকুজ্জামান বলেন, ওই এলাকায় একটি মামলার তদন্তে গিয়েছিলেন এসআই শফিউল আজম। কিন্তু চেকপোস্ট বসানোর বিষয়টি তার জানা ছিল না।

পরে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন তিনি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে সেটা আপসরফা হয়েছে। আটক ছাত্রলীগ নেতাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

সূত্র : যুগান্তর

© 2017, Presslist24.com. <<- প্রথম পাতায় ফিরতে ক্লিক করুন http://www.keranigonj24.com

Facebook Comments





একটি রিপ্লাই দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

2 × 4 =