Main Menu

কেরাণীগঞ্জের শিক্ষক অর্জুন স্যারের ঠিকানা এখন ফুটপাতে

•তথ্য :
■ ফাহমিদা মনি
■ ইশতিয়াক আহমেদ তৈমূর
•চিত্র :
■ কেরাণীগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ
•সম্পাদনা :
■ মুহাম্মাদ আদিল রহমান
●কেরাণীগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

 

“যে দেশে গুণের সমাদর নাই সে দেশে গুণী জন্মাতে পারেনা”

শেখশাদী রহঃ’র বানী যেন আজ বাংলার পথে পথে দৃষ্টান্তরুপে জাগরিত।
হে কেরানীগঞ্জবাসী,
তোমাদের এই ছোট্ট মাটির ঢিবিটা শুধুমাত্র বাংলাদেশের এই টুকরো মাটির খন্ড নয়।
এটা কেরাণীগঞ্জ,
মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার কেরাণীগঞ্জ।
এই ছোট্ট মাটির খন্ডে টিকে থাকা তোমাদের স্বজনরা’ই জোগান দিয়েঠিলো মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই।
তোমরাই পারবে দিন বদলের হেলে যাওয়া পালে আবারো হাওয়ার দোলা দিতে,
তোমরাই তো পেরেছিলো ডিঙ্গাতে সেই ভয়াল অমানিশা।

হাসপাতালের ফ্লোরে ঠাই পাওয়া অসুস্থ অর্জুন স্যার

অরজুন স্যার বিগত ২৭ বছর ধরে কেরাণীগঞ্জের কালিন্দীতে অবস্থিত “কেরাণীগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে” math n science বিষয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপথে এগুনোর নির্দেশনা দিয়েছেন।অবাক হবার বিষয় যে,সেই সুপথের সন্ধানদাতার আশ্রয় হয়েছে সদরঘাট সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্কে। গত ২ মাস ধরে তিনি পার্কের পানির ট্যাংকের উপর খোলাকাশের নিচে অসহায় ও জরাজীর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের লোকেরা উনাকে এখন আর সুপথের সন্ধানদাতা মনে করেনা,মনে মনে আবর্জনা।
কেননা বয়সের সর্বগ্রাসী থাবা তাকে দিনকে দিন দূর্বল আর রোগাক্রান্ত করে তুলছে প্রতিনিয়ত,যার ধকল সামলানোর ভয়ে সবাই এখন যার যার,কেউ নয় আপন তার।
ছেলে মেয়ে,স্ত্রী স্বজনরা কেউ তার দায়ীত্ব নিতে সম্মত নয়,যদিও এই জীর্ণ ক্লান্ত অর্জুন স্যারের অর্জিত অর্থেই চলছে পুরো পরিবার।
উদারচিত্তে বিলিয়ে দেয়া অর্জুন স্যারের কষ্টার্জিত সম্পদ শোষন করে গড়ে উঠা এই উত্তরাধিকারীর দল সুখের ভাগ বাটোয়ারাতেই এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে,
উনার দুঃখের কান্ডারী হওয়ার সময় কি আর আছে!
গাজিপুরের পুবাইলে ৪৫ শতাংশ জায়গা ওনার নামে যার বর্তমান মূল্য ২ কোটি টাকার উপরে,সেই জায়গার কাগজপত্র গুলোও আটকে রেখেছে মেয়ে আর মেয়ের জামাই।

অর্জুন স্যারের বৃত্তান্ত 

অরজুন কান্তি পোদ্দার।
গ্রাম : কচুঁয়া, জেলা চাদঁপুর, পোদ্দার বাড়ি।
এক ছেলে, ২ মেয়ে।
ছেলের নাম : অপুর্ব পোদ্দার, বয়স :২৫। বেসরকারি ফার্ম এর মেনেজার।
বড় মেয়ে বিবাহিত, বড় মেয়ের জামাই পারমানবিক শক্তি কমিশনে চাকরী করে।
বড় মেয়ের বাড়ির ঠিকানা মিরপুর, শ্যাওরাপাড়া।
ছোট মেয়ে: MBBS ফাইনাল ইয়ার। যে এখন তার মা প্রমিলা সাহার কথায় তার বাবার সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
স্ত্রী: প্রমিলা সাহা। পারমাণবিক শক্তি কমিশনে চাকরীররত ছিল, বর্তমান এ LPR এ কর্মরত।
এক ভাই বংকু পোদ্দার। ৫২ নম্বর নর্থবুক, হল রোড, যা ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে মিনিট পাচেঁক এর পথ,
বেশ কয়েক দিন আগে স্যার কে ভিক্টোরিয়া পার্কে ওই অবস্থায় দেখে গেলেও কোনো রকম সাহায্য বা পদক্ষেপ নেয়নি।
ভিক্টোরিয়া পার্কে স্যার ২মাস যাবৎ আছেন তা সিটি কর্পোরেশন এর অধিনে চাকুরীরত, মো: জয়নাল এই কথা জানান। স্যার BSc, MED, এবং ছোট খাট অনেক ট্রেনিং অর্জিত। স্যার রিটায়ার্ড হওয়ার পর,সর্ব প্রথম তার স্ত্রী, প্রমিলা সাহার কাছে গেলে, তিনি বলেন এই জায়গা আমার নামে,আমি তোমাকে থাকতে দেব না। ঝগড়া এড়াতে, স্যার কিছু না বলেই তার কাছ থেকে ফিরে এসেছেন।

এই অবস্থার জন্য কে বা কারা? এমন প্রশ্নের জবাবে স্যার বলেন-
আমি নিজেও কিছুটা সার্বিক ভাবে দায়ী।কারন আমি যখন কলেজে অধ্যায়ন করতাম, তখন প্রমিলা সাহা কে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম।
(বর্তমানে স্যারের বিবাহ কাল আনুমানিক ৩৬/৩৭ বছর) স্যার আরোও বলেন- এমনও হয়েছে যে, আমি পাচঁ ছয় দিন না খেয়ে কাটিয়েছি।
গত ২৭-ফেব্রুয়ারি -২০১৭ ইং, আমার শিক্ষার্থীরা খবর পেয়ে ছুটে এসেছিলো,ওরা আমাকে খাইয়ে দিয়েছে।
উনি রিটায়ার্ড পেনশন পাবেন ২২লক্ষ টাকা,যা উনাকে চাকরিরত অবস্থায় জানানো হয়েছিলো।
তিনি সেই একাউন্টের  কম্পিউটার কোড নাম্বার ভুলে গেছেন।
১৯-০১-১৬ ইং তে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জমা দিলেও এখনো সেই PIN code এর বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন,পেনশনের কাগজপত্র শিক্ষা অফিস ইউনেস্কো ব্যাংকে জমা দিয়েছেন।
কেরানীগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকদের কাছে অর্জুন স্যারের দুর্দশার কথা জানানো হলেঔ তারা এখনো কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন করেননি।
অর্জুন স্যার আগামীর সময় গুলো সাধারন মানুষের মতোই স্বাভাবিক ভাবে কাটাতে চান। তিনি ডায়াবেটিস,দুইবার স্ট্রোক সহ আরো নানা রোগে আক্রান্ত। স্কুলে চাকুরীরত অবস্থায় কেরানীগঞ্জে একটি মেসে ভাড়া থাকতেন,সেখান থেকে উনাকে তাড়িয়ে দিয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে,
মেসের লোকজন উনার সাথে খুব খারাপ আচরন করতো,গালাগাল সহ হাত তুলতেও দ্বিধা করতনা।

●বিবেচনাকারীর জন্য অল্প আলোচনা’ই যথেষ্ট,যদি তার মানব কল্যাণী মানসিকতা থেকে থাকে।
যে দেশে গুণের সমাদর নাই সে দেশে গুণী জন্মাতে পারেনা,শেখশাদী রহঃ’র এ বানী যেন আজ বাংলার পথে পথে দৃষ্টান্তরুপে জাগরিত।
মহান মুক্তিযুদ্ধে মা ভাই বোনের ইজ্জতের বদৌলতে সূচনা হয়েছিলো বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডের,আজ যে ভূখন্ডে তুমি আমি দন্ডায়মান।
হে কেরানীগঞ্জবাসী,
তোমাদের এই ছোট্ট মাটির ঢিবিটা শুধুমাত্র বাংলাদেশের এই টুকরো মাটির খন্ড নয়।
এটা কেরাণীগঞ্জ,
মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার কেরাণীগঞ্জ।
তোমরাই পারবে দিন বদলের হেলে যাওয়া পালে আবারো হাওয়ার দোলা দিতে,
তোমরাই তো পেরেছিলো ডিঙ্গাতে সেই ভয়াল অমানিশা।
অর্জুন স্যারের পাশে দাড়ানোর মধ্য দিয়েই তবে শুরু হোক আমাদের প্রচেষ্টা,
স্যারের লূটপাট হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনা দিয়ে শুরু হোক গৌরবময় ঐতিহ্য ফেরানোর সংগ্রাম।

আবার জমবে মেলা বটতলা হাঁটখোলা
আবার চলো গড়ি ঐক্য,
ছড়াতে আলোক রাশি ছিলো যারা পাশাপাশি
আমরা সে পুরাতন দূর্গ।

© 2017, কেরাণীগঞ্জ টুয়েন্টিফোর. <<- প্রথম পাতায় ফিরতে ক্লিক করুন http://www.keranigonj24.com

Facebook Comments





Leave a Reply