অসহায় বৃষ্টির হারিয়ে যাওয়া বাবা সুজনকে আপনি চিনেন কি?

মিডিয়াতে শেয়ার করুন
Share

Please enter banners and links.

মুহাম্মাদ আদিল রহমান-
কেরাণীগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

আমার জন্য কিছু করুন,আমার বাবাকে পাচ্ছিনা আজ দেড় মাস। কিভাবে আমরা এখানে থাকবো, খাবো কি, পড়বো কিভাবে, মা একা আমাদেরকে কিভাবে মানুষ করবেন। বাবা, আমার কী দোষ? তুমি আমাকে ফেলে গেলে কেন? তুমি একবার ফোন দাও বাবা।

বাবা হারানোর বেদনায় ক্লান্ত অবুঝ বাচ্চা- বৃষ্টি

একটা অবুঝ বাচ্চার মুখ থেকে বেরুনো এমন আর্তনাদ শুনে বুকের ভেতরটা যেন খামচেঁ ধরলো ব্যাকূলতা।
কি করতে পারি আমরা এই অবুঝ বাচ্চার বাবাকে তার কাছে ফিরিয়ে দেবার জন্য!
মানুষ কতটা পাষন্ড হলে এমনটা হতে পারে,এতটা পাষানও কি মানুষের হওয়া সম্ভব।

সেদিন রাত প্রায় ১২ টার মত,অচেনা নাম্বার থেকে আসা ফোন কলটি রিসিভ করতেই খুব অল্প বয়সের মেয়ে কন্ঠ শুনতে পেলাম।
মেয়েটির কথা শুনে মনে হচ্ছিলো কান্না করছে,
এতটুকু বাচ্চার কান্নায় এই পাষান পাথরের মনটা হঠাত উদার হয়ে গেল অজান্তেই।
– কে তুমি আম্মু,কাঁদছো কেন কি হয়েছে তোমার?
= আমার নাম সানজিদা খানম বৃষ্টি,সাভারের আশুলিয়ায় এক ভাড়াটিয়া থাকি। আমার আম্মুর নাম ছাউবি আউতুন, বাবা নাম মান্নাফ আলী সুজন।
গত ১৯ এপ্রিল আমার বাবা কিছু না বলে আমাদের ছেড়ে চলে গেলে,আমরা খুব অসহায় ভাবে আছি (বলেই আবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো মেয়েটি)।
সে আর কিছুই বলতে পারেনি বাকি সময়টা কেঁদেই কাটালো।

বৃষ্টির উধাও হয়ে যাওয়া বাবা- সুজন

কল কেটে দিয়ে আবার ব্যাক করলাম,রিসিভ হলনা।
বাধ্য হলাম ফের কল করতে,নো রিসিভ।
একটু পরে যখন আবারো ডায়াল করলাম একজন ভদ্র মহিলার কন্ঠ শুনে বুঝলাম যে,হয়ত মেয়েটার হতভাগী আম্মু উনি।
হ্যা ধারনা ঠিকই করেছি,তিনিই নিখোঁজ হওয়া সুজনের স্ত্রী।

– আপু কি হয়েছে বিস্তারিত বলবেন কি?
= আমার স্বামী সুজন খুবই ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির লোক,কখনো আমাদের সাথে রাগারাগি বা খারাপ ব্যবহারও করতনা।
এমন ভদ্র শান্ত লোকটা ঊনিশ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ,আমরা অনেক জায়গাতে খোঁজ নিয়েও সন্ধান না পেয়ে আমার শ্বাশুরীকে ফোন করি।
তিনি জানালেন যে,সুজন কেরাণীগঞ্জের স্থানীয় এক মেয়েকে বিয়ে করে সেখানেই (শ্বশুরবাড়ীতে) আছে।
সবকিছু মেনে নিলেও এটা মানতে পারছিনা যে,কোন অপরাধে আমাকে এমন সাজা দিলো সুজন,আমার ভুলটা ছিলো কি।
ছোট্ট মেয়ে সানজিদা সারাক্ষন বাবার জন্য কান্না করছে,লেখাপড়াও বন্ধ অবস্থায়।
সংসারে খাওয়া দাওয়ার মতও তেমন কিছু নেই অবশিষ্ট,অবুঝ মেয়েটাকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের।
কেরাণীগঞ্জের মানুষের কাছে আমার সবিনয় অনুরোধ-আপনারা যদি আমার স্বামী সুজনকে চিনতে পারেন তবে ওর অবুঝ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে হলেও ফিরে আসতে বলবেন,আর যদি আমাকে আপনাদের মেয়ে বা বোনের মত মনে করেন তবে সুজনকে সাথে করে আমার বাসায় এসে চা খেয়ে যাবেন।
আপনাদের একটু চেষ্টা পারে আমার মত অভাগীর সংসারের সুখ ফিরিয়ে দিতে,মুছে দিতে পারে কান্না করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়া ছোট্ট মেয়েটির চোঁখের পানি।

© 2017, কেরাণীগঞ্জ টুয়েন্টিফোর. <<- প্রথম পাতায় ফিরতে ক্লিক করুন http://www.keranigonj24.com

Facebook Comments
মিডিয়াতে শেয়ার করুন
Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × one =